Saturday, March 30, 2019

ক্লাস সি (Class C) আইপি অ্যাড্রেস সাবনেটিং

এবার আমরা Class C এর একটি আইপি অ্যাড্রেস এর সাবনেটিং সর্ম্পকে জানব! আমরা জানি ক্লাস সি এর প্রথম ৩টি অকটেড অর্থৎ 24টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এরং শেষের ৮টি বিট হোস্ট এর জন্য । এবং এর রেঞ্জ হলে 192.0.0.0 থেকে 225.255.255.255 পযন্ত। এর ডিফল্ট সাবনেট মাক্স হল 255.255.255.0।

আমরা 192.168.16.0/24 এই নেটওয়ার্ক এর প্রথম 24টি বিট এর জায়গায় আরো একটি বিট নেটওয়ার্ক্ এর জন্য নিব। তাহলে আমরা অইপি অ্যাড্রেটিকে লিখতে পারি 192.168.16.0/25 এভাবে । এর সাবনেটিং এর ক্ষেত্রে
 সাবনেটওর্য়া সংখ্য: = 21=2 যেহেতু এখানে 1টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা নেটওয়ার্ক পেলাম 2টি

হোস্ট সংখ্যা: = 27-2=126 যেহেতু হোস্ট বিট 8টি এর মধ্যে 2টি নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে।

সাবনেট মাক্স: = 255.255.128.0 যেহেতু প্রথম ৩টি অকটেড সকল বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং ৪নং অকটেড এর বাম দিক থেকে 1টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য যার বেজভালু 128 । সাবনেট মাক্স 256-128=128, তাই সাবনেট মাক্স 255.255.128.0। ব্লক সাইজ হবে: 128।
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.0
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.1
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.126
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রে : 192.168.0.127
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.128
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.129
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 192.168.0.255
আমরা 192.168.16.0/24 এই নেটওয়ার্ক এর প্রথম 24টি বিট এর জায়গায় আরো ২টি বিট নেটওয়ার্ক্ এর জন্য নিই, তাহলে আমরা অইপি অ্যাড্রেটিকে লিখতে পারি 192.168.16.0/26 এভাবে । এর সাবনেটিং এর ক্ষেত্রে

সাবনেটওর্য়া সংখ্য

22=4 যেহেতু এখানে 2টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা নেটওয়ার্ক পেলাম 4টি

হোস্ট সংখ্যা

26-2=62 যেহেতু হোস্ট বিট 8টি এর মধ্যে 2টি নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে।

সাবনেট মাক্স

সাবনেট মাক্স হচ্ছে 255.255.128.0, যেহেতু প্রথম ৩টি অকটেড সকল বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং ৪নং অকটেড এর বাম দিক থেকে 1টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য যার বেজভালু 128 । সাবনেট মাক্স 256-128=128, তাই সাবনেট মাক্স 255.255.128.0। ব্লক সাইজ হবে: 64।
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.0
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.1
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.62
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 192.168.0.63
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.64
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.61
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.126
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 192.168.0.127
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.128
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.129
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.190
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 192.168.0.191
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.128
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.129
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.190
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 192.168.0.191
  • নেটওয়ার্ক : 192.168.0.192
  • প্রথম হোস্ট: 192.168.0.193
  • শেষের হোস্ট: 192.168.0.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 192.168.0.255
এভাবে আমরা সহজেই যেকোন নেটওয়ার্ককে আমাদের প্রয়োজন মত অনেক ছোট ছোট নেটওয়ার্কে ভাগ করতে পারি । যার ফলে আমরা আইপি লস কমাতে পারি এবং ব্রডকাষ্ট স্টোম ও কমাতে পারি।

সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম কি

সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম কি?

একটি সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম (OS), অপারেটিং সিস্টেমের একটি প্রকার যা সার্ভার কম্পিউটারে ইনস্টল এবং ব্যবহার করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম একটি সাধারণ অপারেটিং সিস্টেমের একটি উন্নত সংস্করণ, যা client-server অর্কিটেকচার বা সেমিলার কম্পিউটিং ইনভায়ারমেন্ট এর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

কিছু কমন সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম

  1. Windows Server
  2. Unix
  3. Linux
  4. Mac OS X Server

উইন্ডোজ সার্ভার

বহুল প্রচলিত এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম হল উইন্ডোজ সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম। এটির মূল কারণ হল এর উইজার ইন্টারফেস। বর্তমান এই অপারেটিং সিস্টেম পৃথিবিতে সবচেয়ে বেশি ব্যাবহৃত হচ্ছে। 1993 সালে মাইক্রোসফট বাজারে ছাড়ে মাইক্রোসফট Windows NT 3.51। সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এটি সকলের দৃষ্টি অকর্ষন করে। এর পর 1995 সালে বাজারে ছাড়ে Windows NT 4.0। এভাবে একের পর এক নতুন নতুন ভার্সন বাজারে ছাড়তে থাকে মাইক্রোসফট। সার্ভার অপরেটিং সিষ্টেম হিসেবে মাক্রোসফট সর্বশেষ যে ভার্সনটি বাজারে ছাড়ে তা হল Windows Server 2019।

 উইন্ডোজ সার্ভারের সুবিধা

  • এটি ইন্সটল ও কনফিগার করা বেশ সহজ
  • এটি GUI মোডে কাজ করে তাই কমান্ড মূখস্থ করার কোন ঝামেলা নেই।
  • এটিতে খুব সহজেই ক্লায়েন্ট ইউজারদের ম্যানেজ করা যায়।
  • এতে হাজার হাজার উইজার থাকতে পারে।

উইন্ডোজ সার্ভার অসুবিধা

  • অনেক সময় নতুন কোন সফটওয়্যার বা ডিভাইস ইন্সটল করলে রিবুট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
  • অন্য নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম এর মত এটি নির্ভরযোগ্য নয়।
  • সব ধরণের হার্ডওয়্যারে উপযোগি নয়।

ইউনিক্স সার্ভার

ইউনিক্স একটি কমান্ডমোড অপারেটিং সিস্টেম। এর সব কমান্ড দিতে হবে কমান্ড প্রম্পট থেকে। ইউনডোজ এর মত এত কোন পয়েন্ট এবং ক্লিক সুভিধা এতে নাই। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম এর মত এখানেও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং সার্ভিস চালানো যায়। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এটি বেশ দ্রুতগতির, নির্ভরযোগ্য এবং শক্তিশালী। এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী সেজন্য এটিকে সর্ভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ইউনিক্সের সুবিধা

  • এটি খুবই স্টাবল অপারেটিং সিস্টেম
  • এটি ওয়ার্কস্টেশেন ও সার্ভার হিসেবে কাজ করতে পারে।
  • এটি খুবই দ্রুতগতির
  • এর সাথে রয়েছে অনেক বিল্ড-ইন টুলস, ইউটিলিটি ও কম্পইলার যা ব্যবহার করে ইউনিক্স সার্ভার সহজেই ম্যানেজ করা যায়।

ইউনিক্সের অসুবিধা

  • এটি ব্যবহার করা বেশ জটিল
  • শত শত কমান্ড মখস্থ করতে হয়।
  • ইউনিক্সের কিছু ভর্সন ফ্রি পাওয়া গেলেও অন্য  ভার্সন গুলি বেশ ব্যয়বহুল।
  • ইউনিক্সের কিছু ভার্সন রয়েছে যেগুলি কেবল মাত্র বিশেষ কিছু হার্ডওয়্যার চলে।

লিনাক্স সার্ভার

লিনাক্স একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। এর সোর্স কোড সকলের জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ এর সোর্স কোড দেখে নিজেরমত করে পরিবর্তন করে নিতে পারে। এর আর একটি বড় সুবিধা হল এটি যে কোন প্লাটফমের জন্য উপযোক্ত কম্পইলার দিয়ে সোর্স কোড কম্পাইল করে নিলেই সেটি সেই প্লাটফর্মের উপযোগি হয়ে যায়।
লিনাক্স এর বিভিন্ন ভার্সন রয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন হলো রেডহ্যাট লিনাক্স। বর্তমানে সার্ভার হিসেবে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এর বেশিরভাগ অ্যাপ্লিকেশন বিনামূলে পাওয়া যায়। তবে্ এটি শেখাও অনেক কঠিন। করণ এর কনফিগার সমুহ এর টারমিনাল থেকে কনফিগার করতে হয়। ইউনিক্স এর মত অনেক কোড মূখস্থ করতে হয়।

লিনাক্স সার্ভার এর সুবিধা

  • ইউনিক্সের থেকে এটি ইন্সটল করা সহজ
  • এটি দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য।
  • এটি পিসি, পাওয়ারপিসি এবং স্পার্কস্টেশনে চলে।
  • এটি পাওয়া যায় বিনামূলে
  • এটির সোর্সকোড উন্মুক্ত বলে যে কেউ নিজের মত করে ডেভলপ করতে পারে।

লিনাক্স সার্ভারের অসুবিধা

  • এটি ব্যবহার করা বেশ জটিল
  • শত শত কমান্ড মখস্থ করতে হয়।

ম্যাক ওএস এক্স সার্ভার

এটি এপল এর একটি সর্ভার অপারেটিং সিস্টেম। 1999 সলে এপল এটি বাজারে ছাড়ে। এটি মূলত ইউনিক্স এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর সোর্সকোডও উন্মুক্ত।

ম্যাক ওএস এক্স সার্ভার সুবিধা

  • এটি বেশ সিকিউর
  • এটি গড়ে ওঠেছে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম এর উপর ভিত্তি করে।
  • এর সাথে আছে বিশ্বের সবচেয়ে দূতগতির এপাচি ওয়েব সার্ভার
  • এতে ম্যাকিন্টশ কম্পিউটারকে কেন্দ্রিয়ভবে নিয়ন্ত্রন এর সুবিধা রয়েছে।

ম্যাক ওএস এক্স সার্ভার অসুবিধা

  • এতে মেইল ও প্রিন্ট সার্ভার নেই
  • এটি উইনডোস ক্লায়েন্ট সার্পোট করে না
  • এটি বর্তমানে ম্যাকিন্টশ অ্যাপলিকেশন সার্পোট করে না।
সার্ভার অপারেটিং সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য
  • সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম GUI মোড এবং Command মোড দুই ভাবে ব্যবহার করা যায়।
  • নেটওয়ার্কে সকল প্রসেস সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম ঘটে থাকে
  • সকল ক্লায়েন্ট কম্পিউটার এবং অন্যান্য কম্পিউটার সমুহকে ম্যানেজ করা যায়।
  • ব্যবহারকারীদের পরিচালনা করার জন্য কেন্দ্রীয় ইন্টারফেস প্রদান করে
  • নিরাপত্তা এবং অন্যান্য administrative প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে
  • বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সুবিধা প্রদান করে।

Thursday, March 28, 2019

ক্লাস বি আইপি অ্যাড্রেস সাবনেটিং

আমরা জানি ক্লাস বি এর প্রথম 16টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এরং শেষের 16টি বিট হোস্ট এর জন্য । এবং এর রেঞ্জ হলে 128.0.0.0 থেকে 191.255.255.255 পযন্ত। 172.16.0.0/16 এটি একটি ক্লাস বি নেটওয়ার্ক । আমরা ক্লাস বি এর 172.16.0.0/16 এই নেটওয়র্কটি কে সাবনেটিং করব। ক্লাস বি এর ডিফল্ট সাবনেট মাক্স হল 255.255.0.0।
আমরা 172.16.0.0/16 এই নেটওয়ার্ক এর প্রথম 16বিট এর জায়গায় আরো একটি বিট নেটওয়ার্ক্ এর জন্য নিব। তাহলে আমরা অইপি অ্যাড্রেটিকে লিখতে পারি 172.16.0.0/17 এভাবে । এর সাবনেটিং এর ক্ষেত্রে

সাবনেটওর্য়া সংখ্য

21=2 যেহেতু এখানে 1টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা নেটওয়ার্ক পেলাম 2টি

হোস্ট সংখ্যা

215-2=32768 যেহেতু হোস্ট বিট 16টি এর মধ্যে 1টি নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি থাকে 15টি।

সাবনেট মাক্স

সাবনেট মাক্স 255.255.128.0, যেহেতু প্রথম দুই অকটেড সকল বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং 3rd অকটেড এর প্রথম বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য যার বেজভালু 128। অতএব 256-128=128, তাই সাবনেট মাক্স 255.255.128.0।
  • নেটওয়ার্ক 172.16.0.0
  • প্রথম হোস্ট: 172.16.0.1
  • শেষের হোস্ট: 172.16.127.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 172.16.127.1255
  • নেটওয়ার্ক : 172.16.128.0
  • প্রথম হোস্ট: 172.16.128.1
  • শেষের হোস্ট: 172.16.255.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 172.16.255.255
যদি আমরা প্রথম দুইটি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নিই তাহলে আমাদের সাবনেটওয়ার্কটি কেমন হতে পার তা দেখি।।

সাবনেটওর্য়া সংখ্য

22=4 যেহেতু এখানে 2টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা নেটওয়ার্ক পেলাম 4টি। এই 4টি নেটওয়ার্ক আইডি হল
  1. 172.16.0.0/18
  2. 172.16.64.0/18
  3. 172.16.128.0/18
  4. 172.16.192.0/18

হোস্ট সংখ্যা

214-2=16384 যেহেতু হোস্ট বিট 16টি এর মধ্যে 2টি নেটওয়ার্ক এর জন্য নেওয়া হয়েছে।

সাবনেট মাক্স

এখানে সাবনেট মাক্স হবে 255.255.192.0। যেহেতু প্রথম দুই অকটেড সকল বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং 3rd অকটেড এর বাম দিক থেকে 2টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য যার বেজভালু 128+64=192 বা তাই সাবনেট মাক্স 256-64=192, তাই সাবনেট মাক্স 255.255.192.0।
এবার আমরা দেখব, এখানে যে নেটওয়ার্ক সমুহ পেলাম তার প্রথম হোস্ট আইপি, শেষের হোস্ট আইপি এবং ব্রডকাষ্ট আইপি কত।
  • নেটওয়ার্ক 172.16.0.0
  • প্রথম হোস্ট: 172.16.0.1
  • শেষের হোস্ট: 172.16.63.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 172.16.63.255
  • নেটওয়ার্ক : 172.16.64.0
  • প্রথম হোস্ট : 172.16.64.1
  • শেষের হোস্ট: 172.16.127.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস : 172.16.127.255
  • নেটওয়ার্ক : 172.16.128.0
  • প্রথম হোস্ট : 172.16.128.1
  • শেষের হোস্ট: 172.16.191.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস : 172.16.191.255
  • নেটওয়ার্ক : 172.16.192.0
  • প্রথম হোস্ট: 172.16.192.1
  • শেষের হোস্ট: 172.16.255.254
  • ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস: 172.16.255.255

Wednesday, March 27, 2019

ডার্ক ওয়েভ কি ? Dark Web সর্ম্পকে বিস্তারিত জানুন

আজকের বিঙ্গানের জগতে আমরা ইন্টারনেট ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনা  করতে পারি না। এটি আধুনিক বিশ্বের জন্য একটি  আশীর্বাদ। বিশ্বের বৃহত্তম এই নেটওয়ার্কের শক্তির যাত্রা শুরু হয় 1989 সালে, ইংরেজ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি এর হতে। যে সময় থেকে, এটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে পরিচিত। এটি সংক্ষিপ্ত রুপে WWW নামে পরিচিত।

ডার্ক ওয়েভ কিঃ 

ইন্টারনেট একটি বিশাল নেটওয়ার্ক সিস্টেম। এখানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে তথ্য আদান প্রদান হয়ে থাকে । আমরা সাধারন ব্যবহারকারি ইন্টারনেটের সাধারণ সামগ্রি অ্যক্সেস করি, যা ইন্টানেটের পূর্ণ সংকরণ না। আমরা সাধারণ ব্যবহারকারি যে সকল বিষয় ইন্টারনেটে অ্যক্সেস করি বা করতে পারি তার চেয়ে প্রচুর পরিমান বিষয় আমরা অ্যক্সেক করতে পারি না । অর্থ্যৎ তা সাধারণ ব্যবহারকারির কাছ থেকে লুকানো থাকে । এই লুকানো অংশকে বলা হয় ডার্ক ওয়েভ । ডার্ক ওয়েব একটি ধরনের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কন্টেন্ট যা আসলে অন্ধকারে লুকানো বা অন্ধকারে বিদ্যমান।

ডার্ক ওয়েব মধ্যে কিভাবে তথ্য লুকানো থাকে?

প্রত্যেক সার্চ ইঞ্জিন বিভিন্ন সাইট থেকে ডকুমেন্ট এবং তথ্য খুঁজে বের করে এবং তা সার্চ ইঞ্জিন এর ডাটাবেজ এ সংরক্ষন করে রাখে । আমরা যখন কোন তথ্য সার্চ করি তখন সার্চ  ইঞ্জিন  আমাদের সামনে সেই তথ্য গুলি পেশ করে থাকে। কিন্তু  সার্চ ইঞ্জিনগুলি ডার্ক ওয়েব এ সংরক্ষণ করা  কোন ডাটা বা তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে না। কারণ এই অংশে সাধারন সার্চ ইঞ্জিন প্রবেশ করতে পারে না  ইচ্ছাকৃত ভাবে সার্চ ইঞ্জিনের ইনডেক্স অপশন থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ইন্টানেটে যত পরিমান কন্টেন্ট রয়েছে তার 4% আমরা দেখতে পারি আর 96% আমাদের সামনে লুকানো থাকে।

সাধারণত ডার্ক ওয়েভ Google Chrome, Fire Fox বা এই লেভেলের  সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে ব্রাউজ করা যায় না, বরং স্পেশাল ব্রাউজার প্রয়োজন হয় । তবে, কিছু এক্সটেনশন এবং ভিপিএন ব্যবহার করার মাধ্যমে নরমাল ব্রাউজার দিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব । কেন ব্রাউজ করা যায় না, এটাও আসলে খুব কঠিন কিছু না । ডার্ক ওয়েবের জন্য যারা ওয়েবসাইট খোলে, তারা সাইটগুলো রেজিস্ট্রেশন করে ‘ .onion ’ এবং এই ধরণের কিছু এক্সটেনশনের ব্যবহার করে (আমরা যেমন ব্যবহার করি .com, .net, .org, …….) এবং এই এক্সটেনশন সমৃদ্ধ সাইটগুলো ক্রোম বা এই ধরনের সাধারণ ব্রাউজারগুলো এলাও করে না । ফলে এসব সাইটে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করা যায় না ।

ডার্ক ওয়েব এর উদ্দেশ্যঃ

বাস্তবিক ভাবে ডার্ক ওয়েবের মূল উদ্দেশ্য ইতিবাচক নয়। এটি ডার্কনেট মার্কেটপ্লেসের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই বাজারে অপরাধী এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের জন্য এত জনপ্রিয়। তারা ডার্ক ওয়েবকে অন্য সন্ত্রাসী বা ফৌজদারী গোষ্ঠীর সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করে।

ডার্ক ওয়েব এর সবচেয়ে সফল বেনামী বাজার হল সিল্ক রোড। এটি প্রথম সফল বেনামী বাজার স্থান। এটি ২011 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বিটকয়েন ব্যবহারের সাথে অবৈধ পণ্য (বন্দুক, ড্রাগস) কিনতে এবং বিক্রি করার জন্য অপরাধীকে Amazon / Ebay মত একটি অনলাইন বিক্রির প্ল্যাটফর্ম। একটি বিটকয়েন একটি ডিজিটাল মুদ্রা ।

ডার্ক ওয়েভ এ অ্যাক্সেস ঃ 

সাধারণত ডার্ক ওয়েভ Google Chrome, Fire Fox বা এই লেভেলের  সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে ব্রাউজ করা যায় না, বরং স্পেশাল ব্রাউজার প্রয়োজন হয় । তবে, কিছু এক্সটেনশন এবং ভিপিএন ব্যবহার করার মাধ্যমে নরমাল ব্রাউজার দিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব । বিভিন্ন ধরনের সফ্টওয়্যার ডার্ক ওয়েব এ প্রবেশ করতে পারে। সর্বাধিক জনপ্রিয় সফটওয়্যারটি হল টর। আপনারা এই লিংক এ ক্লিক করে টর ব্রাউজার ডাউনলোড করে নিতে পারেন ।

সতর্কতা ঃ

ডার্ক ওয়েব এ ব্রাউজিং করার সময় আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।  আপনি যখন ডার্ক ওয়েব এ ব্রাউজিং করবেন তখন আপনাকে  নজরদারি করা হবে এবং পাশাপাশি, এটি আপনার ওয়েবক্যামের অ্যাকসেস নিয়ে নিতে পারে এই জন্য এর  উপর দিয়ে ক্যামারা ঢেকে  দেওয়া উচিৎ।

Sunday, March 24, 2019

ক্লাস এ (Class A) আইপি অ্যাড্রেস সাবনেটিং

Class A IP Address এর রেঞ্জ হল 0.0.0.0-127.255.255.255 এবং আমরা জানি IPv4 32 বিটের এবং এই 32বিটকে 4টি অকটেট ভাগ করা হয়েছে।  আর এই প্রত্যেকটি অকটেট একটি ডট (.) এর মাধ্যমে আলাদা করে রাখা হয়।  এটাও আমরা জানি যে Class A এর প্রথম অকটেটটি নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের তিনটি অকটেট হল হোস্ট এর জন্য ।

10.0.0.0/8 এটি ক্লাস এ এর একটি আইপি অ্যাড্রেস এবং এর ডিফল্ট সাবনেটমাক্স 255.0.0.0 । 10.0.0.0/8 নেটওয়ার্কটির  হোস্ট সংখ্যা হবে 2^24-2=16777216-2=16777214 টি। এখন আমরা এই নেটওয়ার্ক অ্যাড্রেটিকে 10.0.0.0/8 অনেকগুলি নেটওয়ার্কে বিভক্ত করব।  এই আইপি অ্যাড্রেটিকে বাইনারিতে লেখি তাহলে এর প্রত্যেকটি আকটেটে যে আটটি করে বিট পাওয়া যাবে। এই প্রতিটি বিটের একটি করে বেস ভালু রয়েছে যেটা আমাদের জানা প্রয়োজন, তাহলে আমরা খুব সহেজে সাবনেটমাক্স বের কারতে পারব । নিচের চিত্রের দিকে খেয়াল করুন তাহলে বিষয়টি ক্লিয়ার হবে ।

এখানে উপরের ছকে যে ভালুটি দেখতে পাচ্ছি সেটা হল বেজ ভালু এবং মাঝের ছকে রয়েছে 10.0.0.0 এর বাইনারি , এবং নিচে রয়েছে ডেসিমেল। যখন কোন অকটেট এর সবগুলি বিট 1 হয় তখন তার সাবনেটমাক্স হয় 255 । দেখুন এটা কিভাবে হয়। যখন  কোন অকটেট এর সবগুলি বিট 1 তখন আমরা ঐ অকটেট এর সব বেজভালু যোগ করি 128+64+32+16+8+4+2+1=255।

আমরা জানি ক্লাস এ এর প্রথম সব বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য তার মানে সবগুলি বিট 1 । তাহলে প্রথম অকটেট এর বেজভালুর মান হচ্ছে  255 এবং পরের তিটটি অকটেট হোস্ট এর জন্য তার মানে এই বিটগুলির মান 0 তাই এর বেজভালু 0। অতএব এর সাবনেটমাক্স 255.0.0.0।

এখন আমরা যদি 10.0.0.0/8 এর জয়গায় আরো দুটি বিট 10.0.0.0/10 নেটওয়ার্ক এর জন্য নিই তাহলে এর সাবনেটমাক্স কত হবে?? ‍খুব সহজ! আমরা এই আইপি অ্যাড্রেটি বাইনারিতে লিখি তাহলে আমাদের বুঝার সহজ হবে 00001010.00000000.00000000.00000000 এই আইপি অ্যাড্রেস এর প্রথম অকটেট ত নেটওয়ার্ক এর জন্য তা আমরা জানি এবার সেকেন্ড অকটেট থেকে আমরা দুটি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নিলাম
00001010.00000000.00000000.00000000 এবার আমরা কি করব? খুব সহজ ঐ দুটি বিট এর বেজভালু এর মান যোগ করি 128+64=192! তাহলে প্রথম অকটেট এর মান হল 255 কারণ সবগুলি নেটওয়ার্ক বিট সেকেন্ড অকটেট এর মান 129 কারণ বামদিক থেকে প্রথম দুটি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং পরের দুটি অকটেট হোসট এর জন্য তা ই তাদের মান 0। এবার এগুলিকে একসাথে লিখি 255.192.0.0। এটাই হল 10.0.0.0/10 এই নেটওয়ার্ক এর জন্য সাবনেট মাক্স।

এভাবে যদি আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়  দুটি অকটেট নেটওয়ার্ক এরজন্য নিই তাহলে তার সাবনেট মাক্স হবে 255.255.0.0। প্রথম তিনটি অকটেট যদি নেটওয়ার্ক এর জন্য নিই তাহলে তার সাবনেট মাক্স হবে 255.255.255.0 কারন প্রতিট অকটেট এর সবগুলি বিট এর মোট বেজভালু এর মান 255। আরো এক ভাবে আমার সাবনেট মাক্স বের করতে পারি তা হয় আমরা যে বিটগুলি নেটওয়ার্ক এর জন্য নিচ্ছি তার শেষ বিটটির যে বেজভালু রয়েছে 256 থেকে তার মান বাদ দিলে আমরা যে মানটি পাব সেই মানটিই হবে সাবনেট মাক্স। আমরা যখন কোন অকটেট এর কোন বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নিব তা অবশ্যই ঐ অকটেট এর বাম দিকে থেকে নিব।

উদাহরণ: আমরা একটি আইপি অ্যাড্রেস নিই 10.0.0.0/14 । এই আইপি অ্যাড্রেসটিকে আমরা সাবনেটিং করব। সাবনেটিং এর ক্ষেত্রে আমরা যেসকল বিষয় বের করা শিখব তা হল ।
  • সাবনেট সংখ্য ( Subnet Number)
  • ব্লক সাইজ ( Block Size)
  • সাবনেট মাক্স ( Subnet Mask )
  • হোস্ট সংখ্য (Host Number)
  • সাবনেট অ্যাড্রেস (Subnet Address)
  • ব্রডকাস্ট অ্যাড্রেস ( Broadcast Address)
  • প্রথম ব্যবহৃত আইপি (Frist Usable IP)
  • শেষের ব্যবহৃত আইপি। ( Last Usable IP)
10.0.0.0/8 এই আইপি অ্যাড্রেস এর প্রথম 8টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য রয়েছে এবার আরো 4টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নিব। ডেসিমেল 10.0.0.0/12 বাইনারি 00001010.00000000.00000000.00000000 এবার আমরা এর নেটওয়ার্ক সংখ্যা, ব্লক সাইজ, হোস্ট সংখ্যা, সাবনেট মাক্স এগুলি বের করা শিখব।

সাবনেট সংখ্যা

প্রথমে আমরা দেখি এখানে কয়টি নেটওয়ার্ক রয়েছে। নেটওয়ার্ক সংখ্যা বের করার নিয়ম হল। 2^n=Network Number এখানে n হল কয়টি বিট আমরা নেটওয়ার্ক এর জন্য নিলাম তার মান ।অতএব নেটওয়ার্ক সংখ্য হল 2^n=2^4=16। আতএব এখানে 16টি নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ব্লক সাইজ

ব্লকসাইজ হল এখানে যে আমরা 16 টি নেটওয়ার্ক পেলাম এই প্রতিটি নেটওয়ার্কে কতটি করে আইপি অ্যাড্রেস থাকবে সেই সংখা্কে বুঝায়। আমরা যেই অকটেট থেকে যে কয়টা বিট নেটওয়র্ক এর জন্য নিলাম সেই বিটগুলির মধ্যে শেষের বিটের যে বেজভালু রয়েছে  ঐ ভালুটিই হল ব্লক সাইজ। এখানে আমরা 4টি বিট নিয়েছি । 4 নাম্বার বিটের বেজভালু হল 16। আতএব এর  ব্লক সাইজ হল 16 । এখান প্রতিটি নেটওয়ার্ক এ 16টি করে আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে।
আমরা অন্য ভাবেও ব্লক সাইজ বের করতে পারি। 256 থেকে ঐ ব্লকের সাবনেট মাক্স এর মানকে বাদ ‍দিলে যে ভালুটি পাওয়া যাবে ওটিই হবে ব্লক সাইজ।

সাবনেট মাক্স

এখানে আমরা 4টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য নিয়েছি। এই 4টি বিটের বেজভালু যোগ করলে যে মান পাওয়া যাবে সেটা হবে সাবনেট মাক্স। এখানে এই 4টি ভালুর যোগফল 240। অথবা 256 থেকে যদি শেষের বিটের মান 16 বিয়োগ করি তাহলেও পাই 240 । অতএব সাবনেট মাক্স 255.240.0.0।

হোস্ট সংখ্য

হোস্ট সংখ্যা বের করা জন্য আমরা আগে দেখব কয়টি বিট হোস্ট এর জন্য রয়েছে । এখানে 2নং অকটেট এ 4টি এবং লাষ্টের দুইটি অকটেট এর 8+8=16টি তাহলে টোটাল 20টি । হোস্ট সংখ্যা বের করার নিয়ম হল 2^n-2= Host। এখানে n হল হোস্ট বিটের সংখ্য। অতেএব 2^20-2= 1048576-2= 1048574 টি হোস্ট রয়েছে প্রতিটি নেটওয়ার্কে। এখানে দুইটি অ্যাড্রেসকে বিয়োগ করার কারণ হল এই দুইটি অ্যাড্রেস হল একটি নেটওয়ার্ক অ্যাড্রেস আর একটি হল ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস। এই দুইটি অ্যাড্রেস হোস্ট এর জন্য ব্যবহার করা হয় না ।

সাবনেট অ্যাড্রেস

এখন আমরা দেখব এখানে যে 16টি নেটওয়ার্ক রয়েছে প্রত্যেক নেটওয়ার্ক এর আইপি অ্যাড্রেসমুহ। আমরা জানি প্রতিটি সাবনেটের ব্লক সাইজ হল 16। প্রতিটি নেটওয়র্ক শুরু হবে 16টি আইপি অ্যাড্রেস পর পর। এখানে অমরা যেই আকটেড এর বিট নেটওয়াক

এভাবে আমরা 16টি নেটওয়ার্ক পাওয়া না পর্যন্ত যোগ করতে থাকলে আমরা সকল নেটওয়ার্ক সমুহ পাব এখানে যে 16টি নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে তা নিন্মে দেওয়া হল ।

ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস

নেটওয়ার্ক এর প্রথম অ্যাড্রেসটিকে বলা হয় নেটওয়ার্ক অ্যড্রেস এবং শেষের অ্যাড্রেসটিকে বলা হয় ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস । কোন নেটওয়র্ক এর শেষের অ্যাড্রেসটিকে বলা হয় ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস।  নিচে এই প্রতিটি নেটওয়ার্ক এর ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস দেখানো হল

প্রথম এবং শেষ ইউজেবল আইপি অ্যাড্রেস

আমরা জনি যে প্রতিটি নেটওয়ার্ক এর শুরুর আইপিটি হল নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের আইপিটি হল ব্রডকাষ্ট এর জন্য । আতএব দুই নাম্বার আইপি থেকে লাষ্টের উপরের আইপিকে আমরা বলব ইউজেবল আইপি অ্যড্রেস । এই মাঝের আইপি গুলিকে আমরা  হোস্ট এর জন্য ব্যবহার করতে পারি । আমরা যদি প্রথম নেটওয়ার্ক এর ক্ষেত্রে দেখি – তাহলে প্রথম আইপি হল 10.0.0.1 এবং শেষেরে আইপি হল 10.0.255.255 । আমরা যদি এর মাঝের আইপি গুলি বের করার চেষ্ট করি তাহলে
এভাবে 10.0.0.0 থেকে 10.15.255.255 পর্যন্ত 1048574 টি হোস্ট রয়েছে। এখানে 10.0.0.0 এবং 10.15.255.255 ছাড়া প্রথম আইপি হল 10.0.0.2 এবং শেষ আইপি হল 10.15.255.254 । অতএব 10.0.0.2 হল প্রথম ইউজেবল আইপি এবং 10.15.255.254 হল শেষ ইউজেবল আইপি। এত গেল একটি নেটওয়ার্ক এর কাহিনি এভাবে প্রতিটি নেটওয়ার্ক এ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত 1048574 টি করে আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে ।
নিচের চিত্রের মাধমে 10.0.0.0/12 সাবনেটের সকল সাবনেট, ব্রডকাষ্ট, প্রথম ইউজেবল আইপি, শেষ ইউজেবল আইপি, দেখানো হল
এবার একটি (১)বিট অন করে সাবনেটিং করি। ১০.০.০.০/৯
  • ২৫৫.১২৮.০.০
  • নেটওয়ার্ক সংখ্যা=২ =২
  • হোস্টের সংখ্যা= ২২৩-২= ৮৩৩৮৬০৬
  • সাবনেট আইডি =২৫৬-১২৮=১২৮
  • নেটওয়ার্ক-১= ১০.০.০.০
  • প্রথম হোস্ট =১০.০.০.১
  • ১০.০.০.১
  • ১০.০.০.৩
  • শেষ হোস্ট= ১০.১২৭.২৫৫.২৫৪
ব্রডকাস্ট এড্রেস=১০.১২৭.২৫৫.২৫৫
——————–—————————————————————————-
  • নেটওয়ার্ক-২= ১০.১২৮.০.০
  • প্রথম হোস্ট= ১০.১২৮.০.১
  • ১০.১২৮.০.২
  • ১০.১২৮.০.৩
  • শেষ হোস্ট= ১০.২৫৫.২৫৫.২৫৪
  • ব্রডকাস্ট এড্রেস= ১০.২৫৫.২৫৫.২৫৫

Saturday, March 23, 2019

সুপারনেটিং কি? সুপারনেটিং সম্পর্কে বিস্তরিত জানুন

সুপারনেটিং সাবনেটিং এর বিপরীত। সাবনেটিং হল একটি সিঙ্গেল বড় নেটওয়ার্ককে অনেকগুলি ছোট ছোট নেটওয়ার্কে বিভক্ত করা। সুপারনেটিং হল হল অনেকগুলি মাল্টিপুল নেটওয়ার্ককে একটি নেটওয়ার্কে রুপান্তর করা।
সুপারনেটিং হল  একই নেটওয়ার্ক প্রিফিক্স এ থাকা অনেকগুলি নেটওয়ার্ক এর সংযোগ বা মিশ্রন। সুপারনেটিং রাউটিং টেবিলের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্য সমাধান করার জন্য চালু করা হয়েছিল। একটি সুপারনেটিং তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতিটি সাধারণত Supernetting বা route aggregation অথবা route summarization বলা হয়। সুপারনেটিংকে route aggregation বা route summarization ও বলা হয়।  এছাড়াও সুপারনেটিং রাউটিং প্রক্রিয়াকে সহজ করে।


উদাহরণস্বরূপ, 192.168.2.0/24 এবং 192.168.3.0/24  এই নেটওয়ার্কটিকে সংযুক্ত করে সুপারনেটিং 192.168.2.0/23 হিসেবে প্রকাশ করা যায়। এই সুপারনেটে, প্রথম 23টি  বিট নেটওয়ার্ক অংশ এবং পরের 9টি  বিট হোস্ট শনাক্তকারী হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

সুতরাং,  একটি অ্যাড্রেস অনেক গুলি ছোট ছোট নেটওয়ার্ক এর প্রতিনিধিত্ব করবে এবং এটি রাউটিং টেবিলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া রাউটিং এন্ট্রির সংখ্যা হ্রাস করবে। সাধারণত, সুপারনেটিং  ক্লাস সি আইপি অ্যাড্রেস এর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সুপারনেটিং সাপোর্ট

সাধারণত যে সকল প্রোটকল সুপারনেটিং সাপোর্ট করে Border Gateway Protocol (BGP) এবং Open Shortest Path First (OSPF) কিন্তু Exterior Gateway Protocol (EGP) এবং Routing Information Protocol (RIP) Version 1 সুপারনেটিং সাপোর্ট করে না। তবে Routing Information Protocol (RIP) Version 2 সুপারনেটিং সাপোর্ট করে।

সুপারনেটিং করার নিয়ম

আমরা যে সকল নেটওয়ার্ককে সুপারনেটিং করতে চাই সেই সকল নেটওয়ার্ককে অবশ্যই একই ক্লাস এবং একই নেটওয়ার্ক প্রিফিক্স এ থাকতে হবে। তা না হলে আমারা সে সকল নেটওয়ার্ককে সুপারনেটিং করতে পারব না।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা নিম্নলিখিত 4 নেটওয়ার্কের সুপারনেটিং বা রুট সামারাইজেশন করব।

Network Subnet Mask Binary Of  The Network
192.168.0.0 / 24 192.168.1.0 / 24 192.168.2.0 / 24 192.168.3.0 / 24 255.255.255.0 255.255.255.0 255.255.255.0 255.255.255.0 11000000 11000000 11000000 11000000 10101000 10101000 10101000 10101000 00000000 00000001 00000010 00000011 00000000 00000000 00000000 00000000
আমরা ‍উপরের চিত্রে দেখতে পাচ্ছি  এখানে আমরা মোট 4টি নেটওয়র্ক নিয়েছে যাদের প্রত্যেকের CIDR হল /24 এবং তাদের সাবনেট মাক্স হল 255.255.255.0।  আমরা যদি এর রাইনারি মান দেখি তাহলে দেখতে পাব প্রত্যেকটি নেটওয়ার্ক এর প্রথম  22টি বিট এর মান একই (11000000-10101000-000000)।  রুট সামারাইজ বা সুপারনেটিং এর জন্য আমাদের কতটি পর্যন্ত। বিট কমন কমন আছে তা আমাদের নির্ণয় করতে হবে । এখানে আমরা কমন বিট পেয়েছে ২২ টি পর্যন্ত। অথ্যাৎ 4টি নেটওয়ার্ক এরই 22 টি বিট এর মান একই। এই 4টি নেটওয়ার্ক এর সুপারনেটিং এর জন্য এতটুকু ইনফরমেশন যথেষ্ট।

আমাদের সামারাইজড আইপি অ্যাড্রেস হবে 192.168.0.0/22 এবং এর সাবনেট মাক্স হবে 255.255.252.0। এই সাবনেট মাক্সটি আমরা কিভাবে পেলাম। যেহেতু প্রথম অকটেড এর প্রতিটি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য সুতরাং তাদের মান হবে 255। অনুরুপ ভাবে দ্বিতীয় অকটেড এর মানও 255 এবং তৃতীয় অকটেড এর যেহেতু প্রথম 6টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য সুতরাং প্রথম 6টি বিট এর মান হল 252। অতএব সাবনেট মাক্স হল 255.255.252.0।

এবার যদি আমরা আমাদের রাউটিং টেবিলে 192.168.0.0/22 এবং সাবনেট মাক্স 255.255.252.0 এ নেটওয়ার্কটি এড করে দিই তাহলে আমাদের  এই চারটি নেটওয়ার্ক (192.168.0.0 / 24, 192.168.1.0 / 24, 192.168.2.0 / 24, 192.168.3.0 / 24) রাউটিং টেবিলে এড হয়ে যাবে এবং তারা কমিউনিকেট করতে পারবে ।

Wednesday, March 20, 2019

সাবনেট মাস্ক কি? সাবনেট মাক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সাবনেট মাক্স

নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক সংখ্যা এবং হোস্ট সংখ্যাকে আলাদা করার বুঝানোর জন্য IP Address এর মতই 32 বিটেরর একটি অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয় যাকে বলা হয় সাবনেট মাক্স। ‍Subnet Mask মূলত ব্যবহার করা হয় IP এর নেটওর্য়াক আইডি এবং হোস্ট আইডিকে সনাক্ত করার জন্য। একটি Subnet mask-এ IP address এর মত ৪ Octets আছে। একটি ডিফল্ট Subnet mask-এ 255 কে ব্যবহার করা হয় Network ID হিসেবে এবং 0 কে ব্যবহার করা হয় Host ID হিসেবে।


আমরা Network Prefix/CIDR দেখে খুব সহেজে বুঝতে পারব কোন আইপি অ্যাড্রেস এর কয়টি বিট নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং কয়টি বিট হোস্ট এর জন্য । কিন্তু যখন আমরা কম্পিউটারে এই আইপি অ্যাড্রেটি বসাব সেখানে কোন আইপি অ্যাড্রেসকে (10.0.0.0/8) এভাবে বসানোর কোন সিস্টেম নাই। এখানে ইউজ করা হয় সানেট মাক্স।প্রতিটি TCP/IP হোস্টের জন্য অন্তত দুটি তথ্য দরকার পড়ে। প্রথমত একটি আইপি এড্রেস এবং দ্বিতীয়ত একটি সবনেট মাস্ক।

সাবনেট মাক্স এর কাজ

সাবনেট মাস্কের কাজ হলো আইপি এড্রেসের কোন বিটগুলি নেটওয়ার্ক আইডি আর কোনগুলি হোস্টের আইডি তা শনাক্ত করা। সাবনেট মাস্ক না থাকলে কম্পিউটার বুঝতে পারে না আইপি এড্রেসের কোন অংশ নেটওয়ার্ক আইডি আর কোন অংশ হোস্ট । Network Prefix ও Subnet Mask এর কাজ একই। আমরা Network Prefix দেখে Subnet Mask বলতে পারি তেমটি Subnet Mask দেখে Network Prefix বলতে পারি । প্রত্যেক ক্লাস এর একটি ডিফল্ট সাবনেট মাক্স রয়েছে।
  • Class A এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক 10.0.0.0/8 সাবনেট মাক্স 255.0.0.0
  • Class B এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক 128.0.0.0/16 সাবনেট মাক্স 255.255.0.0
  • Class C এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক 192.0.0.0/24 সাবনেট মাক্স 255.255.255.0
এখানে 255.255.255.0 দ্বারা বুঝায় যে কোন নেটওয়ার্ক এর প্রথম তিনটি ব্লক নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের ব্লকটি হোস্ট এর জন্য ।
এবার দেখি Classless IP Address Classfull IP Addrss কাকে বলে
  • Classless IP Address
  • Classfull IP Address

Classless IP Address

যখন কোন আইপি অ্যাড্রেস ডিফল্ট সাবনেট মাক্স এ থাকে না তা পরিবর্তন করা হয় তখন তাকে Classless IP Address বলা হয়। যেমন ধরুন 10.10.10.0/8 এটি একটি ক্লাস এ এর আইপি অ্যাড্রেস এবং এর ডিফল্ট সাবনেট মাক্স 255.0.0.0। কিন্তু যখন আমরা একে এভাবে লেখব 10.10.10.0/24! এখনো কিন্তু এটি ক্লাস এ এর আইপি অ্যাড্রেস কারণ এটি শুরু হয়েছে 10 দিয়ে আর আমরা জানি 0 থেকে 127 পর্যন্ত ক্লাস এ এর রেঞ্জ।
এখানে যা হল 10.10.10.0/8  এর প্রথম তিনটি Octet কে নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের একটি Octet কে হোস্ট এর জন্য নেওয়া হয়েছে । এবং এর সাবনেট মাক্স হবে 255.255.255.0। এবং 10.10.10.0/24 এই আইপি অ্যাড্রেসকে বলা হবে Classless IP Addres।

Classfull IP Address

যখন কোন আইপি অ্যাড্রেস ডিফল্ট সাবটে মাক্স এ থাকে তখন তাবে Classfull IP Address বলে। Class A এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক 10.0.0.0/8 ডিফল্ট সাবনেট মাক্স 255.0.0.0। Class B এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক 128.0.0.0/16 ডিফল্ট সাবনেট মাক্স 255.255.0.0। Class C এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক 192.0.0.0/24 ডিফল্ট সাবনেট মাক্স 255.255.255.0।

Loopback Address

IPv4 এ 127.0.0.1 এই অ্যাড্রেসটি Loopback অ্যাড্রেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই Loopback অ্যাড্রেস হলো একটি বিশেষ অ্যাড্রেস যা দ্বারা প্রত্যেকটি কম্পিউটার/হোষ্ট তাদের নিজেদেরকেই চিনে থাকে। এই Loopback অ্যাড্রেসকে PING করে কোনো কম্পিউটারের TCP/IP কনফিগারেশন টেষ্ট করা হয়।

Link-local Address

IPv4 এ 169.254.0.0 হতে 169.254.255.255 (অর্থাৎ 169.254.0.0/16) এই অ্যাড্রেস ব্লকটি Link-local Address অ্যাড্রেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Link-local Address অ্যাড্রেস হলো একটি বিশেষ অ্যাড্রেস ব্লক যদি কোন কম্পিউটারে কোন আই.পি কনফিগারেশন করা না থাকে তাহলে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম এই অ্যাড্রেস ব্লকের যেকোন একটি আই.পি কে ঐ কম্পিউটারের আ.পি অ্যাড্রেস হিসেবে অটোমেটিকভাবে অ্যাসাইন করে দেয়।

Friday, March 15, 2019

অপারেটিং সিস্টেম কি?

আপনি হয়ত অপারেটিং সিস্টেম এই কথাটি শুনেই থকবেন। কিন্তু আপনি জানেন কি এই অপারেটিং সিস্টেম টি আসলে কি? ইংরেজি Operate শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল পরিচালনা করা। অপর দিকে System এর আভিধানিক অর্থ হল পদ্ধতি। অর্থাৎ অপারেটিং সিস্টেম বলতে কোন কিছুকে পারিচালনা করার পদ্ধতিকেই বুঝিয়ে থাকে। অপারেটিং সিস্টেম হল (OS) এমন একটি প্রোগ্রাম যা সফ্টওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারগুলির মধ্যে ইন্টারফেস হিসাবে কাজ করে। কোন ডিভাইস এর হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারগুলির মধ্যে সমান্বয়ক হিসেবে কাজ করে।

আমেরিকান ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইনস্টিটিউটের (ANSI) মতে অপারেটিং সিস্টেমের সংঙ্গা হল:
“Software which controls the execution of computer programs and which may provide scheduling, debugging, input/output control, accounting, compilation, storage assignment, data management and related service”
অর্থাৎ “যে সফটওয়্যার কম্পিউটার প্রোগ্রামের এক্সিকিউশন নিয়ন্ত্রন করে এবং সিডিউলিং, ডিবাগিং, ইনপুট/আউটপুট নিয়ন্ত্রণ, একাউন্টিং, কম্পাইলেশন, তথ্যাবলি সংরক্ষণ, কার্যক্রম, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ সমুহ করে থাকে তাকে অপারেটিং সিস্টেম বলে।”

অপারেটিং সিস্টেমও মূলত একটি সফ্টওয়্যার। তবে এটি একটি স্পেশাল সফ্টওয়্যার যা ঐ ডিভাইস/কম্পিউটারে থাকা অন্যান্য সফ্টওয়্যারগুলিকে এক্সিকিউট করে থাকে। এটি একটি কম্পিউটার এর অন্যান্য সকল কর্যপ্রনালি সম্পাদন করা জন্য একটি বিশেষ পোগ্রাম। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া, একটি কম্পিউটার শুধুমাত্র একটি বক্স ছাড়া আর কিছুই না।

বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম

অপারেটিং সিস্টেম এর কথা বললে অনেকে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম এর কথা মনে করে। অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন হতে পারে। জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এবং কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম। এছাড়াও আরো অনেক অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে।
কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ
  • Microsoft Windows – পারসোনাল কম্পিউটার এবং IBM কম্পিউটার এর জন্য উপযুক্ত একটি অপারেটিং সিস্টেম। Microsoft Windows সবচেয়ে সাধারণ এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি অপারেটিং সিস্টেম।
  • Apple MAC OS – অ্যাপল ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম। এটি শুধুমাত্র অ্যাপল কম্পিউটার জন্যই ব্যবহৃত একটি অপারেটিং সিস্টেম ।
  • Ubuntu Linux – এটিও পারসোনাল কম্পিউটার এবং IBM কম্পিউটার এর জন্য উপযুক্ত একটি অপারেটিং সিস্টেম । এটি ওপেন সোর্স এবং একটি জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম।
  • Google Android – Google Android অপারেটিং সিস্টেমটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং ট্যাবলেট এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • iOS – শুধুমত্র অ্যাপল আইফোন এবং আইপ্যাড এ ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম।
  • Chromium – এটি গুগলের একটি অপারেটিং সিস্টেম।
বর্তমানে ব্যবহৃত মর্ডান অপারেটিং সিস্টেগুলি graphical user interface বা GUI অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়। GUI অপারেটিং সিস্টেমে আমরার মাউস ব্যবহৃারের মাধ্যমে বিভিন্ন আইকন, মেনু এবং বোতামে ক্লিক করে সহজেই কোন কাজ সম্পাদন করা যায়। প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমে আবার অলাদা আলাদা GUI লুক বি্দ্যমান। যেমন উইনডোস এর ক্ষেত্রে দেখতে এক রকম এবং ‍লিনক্স এর ক্ষেত্রে আবার অন্য রকম। এনড্রএড এর ক্ষেত্রে এটি আবার অন্য এক রকম। বর্তমানের মর্ডান অপারেটিং সিস্টেম গুলি আমার খুব সহজেই ব্যবহৃত করতে পারি কিন্তু আগের যে অপারেটিং সিস্টেম গুলি ছিল ডস মোডে। ঐ অপারেটিং সিস্টেমগুলিতে কিবোর্ড এর মাধ্যমে কমান্ড লিখে লিখে কাজ করতে হত।

অপারেটিং সিস্টেম এর প্রকারভেদ

  • ব্যাচ অপারেটিং সিস্টেম
  • সময়-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম
  • ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম
  • নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম
  • রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম

ব্যাচ অপারেটিং সিস্টেম

ব্যাচ মোড অপারেটিং সিস্টেমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাটা সংগ্রহ করে এবং পরে সকল ডাটাকে নিয়ে একসাথে প্রসেসিং প্রক্রিয়া শুরু করে। এই সিস্টেমে একটি কাজ শেষ হলে পরবর্তী কাজ প্রসেসিং করতে শুরু করে। MS-DOS ব্যাচ মোড পদ্ধতির অপারেটিং সিস্টেম। এই পদ্ধতিকে সিরিয়াল, সিকুয়েনশিয়াল বা অফ-লাইন মোড অপারেটিং সিস্টেমও বলা হয়। প্রথমে ইউজারের দ্বারা সাবমিট করা কাজগুলি কম্পিউটারের মধ্যে একটি ব্যাচে সংগৃহীত হয় এবং একটি ইনপুট সারিতে রাখা হয়। যখন কম্পিউটার প্রতিটি কাজ একটির পর একটি সম্পাদন বা প্রক্রিয়া করতে থাকে তখন ইউজারদের কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।

টাইম-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেম

এই ধরণের অপারেটিং সিস্টেমে বিভিন্ন ইউজারকে CPU এর মোট ব্যবহারযোগ্য সময়, ব্যবস্থপনা মেমরি এবং কম্পিউটার সিস্টেম এর অন্যান্য উপকরণগুলি শেয়ার করে। মাল্টিপ্রোগ্রামিং এর কাজ একই CPU দিয়ে সমাধান করা যায় টাইম শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেমে। এই সিস্টেমে একই CPU এর মাধ্যমে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায়। একাধিক ব্যবহারকারী এই সিস্টেমে কাজ করতে পারে। টাইম শেয়ারিং এর মাধ্যমে একসথে অনেক ইউজার কাজ করতে পারে।

ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম

এই সিস্টেমে একত্রিতভাবে যুক্ত বিভিন্ন কম্পিউপারগুলি নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়ে প্রদত্ত কাজটি সম্পাদন বা প্রক্রিয়াকরন করে থাকে। একটি অপারেটিং সিস্টেম যা ডিস্ট্রিবিউটেড প্রসেসিংকে সাপোর্ট করে তার প্রধান বৈশিষ্ট হল যোগদানাকারী কম্পিউটারগুলির মধে অপারেশনগুলির সংযোগ রক্ষা ও তথ্যের প্রবাহমানতা বজায় রাখা।

একটি ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম এর মত হতে পারে। যদি একটি নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম, বিভিন্ন সংযুক্ত কম্পিউটারগুলির উপস্থিতি সম্পের্কে ব্যবহারকারী সজাগ থাকে, যেগুলিতে ব্যবহারকারী লগ ইন করতে পারে এবং তথ্য সরবরাহ করতে পারে। যদিও একটি ডিস্টিবিউটেড সিস্টেমে ইউজার ডিস্ট্রিবিউটেড ভাবে কাজের প্রক্রিয়াকরণের ব্যাপারে কিছুই জানতে পারে না। ইউজারের কাছে এটি এমনভাবে ফুটে ওঠে যাতে করে মনে হয় প্রক্রিয়ারণটি একটিমাত্র প্রসেসর সিস্টেমে সম্পাদন হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম

একটি নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যা নেটওয়ার্কগুলিতে একাধিক কম্পিউটারগুলির মধ্যে ওয়ার্কস্টেশন, ডেটাবেস শেয়ার, অ্যাপ্লিকেশন শেয়ার এবং শেয়ার ফাইল এবং প্রিন্টার শেয়ার অ্যাক্সেস ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়। বেশিরভাগ সুপরিচিত নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমগুলির মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফ্ট উইন্ডোজ সার্ভার 2003, মাইক্রোসফ্ট উইন্ডোজ সার্ভার 2008, 2012, লিনাক্স এবং ম্যাক ওএস এক্স।
নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে একজন ইউজার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হার্ডওয়্যার এবং সফওয়্যার (প্রিন্টার, স্কানার, স্টোরেজ ডিভাইস, বিভিন্ন সফটওয়্যার) শেয়ার করে ইউজ করতে পারে। তবে এর জন্য নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম সহ সকল ইউজারদেরকে একটি নেটওয়ার্কে থাকতে হবে।

রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম

একটি রিয়েল-টাইম অপারেটিং সিস্টেম (RTOS) একটি অপারেটিং সিস্টেম যা একটি নির্দিষ্ট সময় সীমাবদ্ধতার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট কাজ করার নিশ্চয়তা দেয়। সাধারণত এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত যেখানে ডটিা প্রসেসিং এর জন্য রেসপন্স টাইম জটিল সেখানে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ সরুপ এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট দেখাশোন, কৃত্রিম উপগ্রহের যাতায়াত নিয়ন্ত্রন, রিয়েল টাইম সিমুলেটরস ইত্যাদি। এই ধরনেট অপারেটিং সিস্টেম এর রেন্সপন্স টাইম খুব বেশি হয়। এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম হল LYNX, RTX ইত্যাদি।

মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম

মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম এর মাধ্যমে একাধিক প্রোগ্রাম প্রায় একই সাথে একটি মাত্র সিপইউ এর মাধ্যমে এক্সিকিউট হয়ে থাকে। এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম একই প্রইমারি মেমরিতে একই সাথে একাধিক প্রোগ্রামকে রান করতে পারে। এটি করার জন্য অপারেটিং সিস্টেমকে মেমরির সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়।
মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেম

মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেমে একাধিক প্রসেসর এক সাথে চালানো যায়। মাল্টিপ্রসেসিং অপারেটিং সিস্টেমে একসাথে অনেকগুলো প্রসেসর চালানোকে মাল্টিপ্রসেসিং বলা হয়। এই পদ্ধতিতে একটি বড় ও একটি ছোট প্রসেসর থাকে। বড় প্রসেসরকে প্রধান প্রসেসর বা সিপিউ এবং ছোট প্রসেসরকে ফ্রন্ট এন্ড প্রসেসর বা সাপোর্ট প্রসেসর বলা হয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে কাজের গতিবাড়ানো যায়।

Tuesday, March 12, 2019

সাবনেটিং কি? সাবনেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সাবনেটিং

একটি বড় নেটওয়ার্কে ছোট ছোট নেটওয়ার্কে বিভক্ত করাকে সাবনেটিং বলে। মনে করুন আমদের কাছে একটি নেটওয়ার্ক অ্যাড্রেস (172.16.0.0/16) আছে। আমরা চাইলে এই নেটওয়ার্ক অ্যাড্রেকে অনেকগুলো ছোট ছোট নেটওয়ার্ক এ ভাগ করতে পারি। কোন বড় নেটওয়ার্ককে এভাবে ছোট ছোট নেটওয়ার্ককে ভাগ করাকে বলা হয় সাবনেটিং।



আমারা যদি একটি উদাহরণ দেখি তাহলে বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হবে। রাইহান হোসেন উত্তরাধিকার সুত্রে তার বাবার কাছ থেকে একটি অনেক বড় প্লট পেয়েছে। যার প্লট নাম্বার হল 20। এখন রাইহানের 2টি সন্তান হল! ধরে নিলাম। এখন তার এর প্লটি দুটি সন্তানের কোছে ভাগ করে দিবে। এখন প্রবলেম হল এই প্লট নাম্বার কি চেঞ্জ হয়ে 20, 21 হবে? না এই রকম সম্ভব না কারণ 21 বা অন্য যে কোন নাম্বার ব্যবহার করা যাবে না। কারণ সেই নাম্বার টা অন্য কোউ ব্যবহার করতেছে।

এক্ষেত্রে এই প্রবলেম টা সামাধান করার জন্য এখানে একটি নতুন নাম্বার ব্যবহার করা হয় আর তা হল 20/1, 20/2 এই রকম। যেখানে 20 থাকবেই। এভাবেই মূলত নতুন প্লট নাম্বার নির্ধরণ করা হয়ে থাকে।

ঠিক এমনই ঘটনা ঘটে সাবনেটিং এর ক্ষেত্রে। যেখানে আমাদের মূল নেটওয়ার্কটি ঠিক থাকে, কিন্তু আমরা অনেকগুলি অলাদা অলাদা নেটওয়ার্কে ভাগ করতে পারি। আর এই সাবনেটিং এর মূলে রয়েছে সাবনেট মাক্স। সাবনেট মাক্স এর সাহায্যেই এই সাবনেটিং করা হয়ে থাকে।

আমরা যারা Networking শিখতেছি বা যারা নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হতে চাচ্ছি তাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে Subnetting। দক্ষ Network Engineer হতে হলে আমাদের অবশ্যই Subnetting / Subnet Mask / Network IP/ Block Size / Total usable IP / 1st usable IP / Last usable IP/ Broadcast IP এইসব সর্ম্পকে খুব ভাল ধারণা থাকতে হবে।

IPv4 এ প্রতিটি নেটওয়ার্কে তিনটি করে অ্যাড্রেস থাকে #Network Address #Broadcast Address #Host Address। নিচে এগুলি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারনা দেওয়া হল।
  • Network Address : Network Address দ্বারা একটি নেটওয়ার্ককে বুঝানো হয়।
  • Broadcast Address : Broadcast Address হলো একটি বিশেষ অ্যাড্রেস যা দ্বারা একটি নেটওয়ার্কের সকল Host এর সাথে কমিউনিকেট করা যায়। Broadcast Address হিসেবে Network Range এর শেষ অ্যাড্রেসটি ব্যবহৃত হয়।
  • Host Address : আমি আগেই বলেছি, যদি কোন Host একটি নেটওয়ার্কে কমিউনিকেট করতে চায় তাহলে তার একটি স্বতন্ত্র অ্যাড্রেস থাকা প্রয়োজন। আর সেই অ্যাড্রেসটিকেই Host Address বলে। একটি Network Range এর Network Address ও Broadcast Address এর মধ্যবর্তী সকল অ্যাড্রেসসমূহকে Host Address হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

Friday, March 8, 2019

আইপি অ্যাড্রেস কত প্রকার ও কি কি

IP Address

ইন্টারনেটে প্রতিটি হোস্টকে একক ভাবে চিন্হিত করার জন্য যে একটি লজিক্যাল অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় ইন্টারনেট প্রোটকল বা আইপি অ্যাড্রেস। প্রতিটি হোস্ট এর একটি করে ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস থাকে যাকে বলা হয় ম্যাক অ্যাড্রেস । এটি ঐ ডিভাইস  তৈরিকারক কোম্পানি নির্ধারন করে দেয়।  এছাড়াও ইন্টানেটে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিটি হোস্ট এর আর একটি লজিক্যল অ্যাড্রেস এর প্রয়োজন হয়। এই লজিক্যল অ্যাড্রেসটিকে কলা হয় আইপি অ্যাড্রেস। ইন্টানেটে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিটি হোস্ট এর আইপি অ্যাড্রেস এর প্রয়োজন । আইপি অ্যাড্রেস ছাড়া কোন হোস্ট বা কম্পিউটার ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারবেনা । নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটারকে একে আপরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আইপি অ্যাড্রেস এর পয়োজন আছে ।

আইপি অ্যাড্রেসকে তাদের কর্মক্ষম বৈশিষ্ট্য উপর ভিত্তি করে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়, যথা:
  • Unicast IP Addresses
  • Multicast IP Addresses
  • Broadcast IP Addresses

Unicast IP Addresses

ইউনিকাস্ট হল এমন একটি আইপি অ্যড্রেস যা নেটওয়ার্কে কোন একটি হোস্টকে একক ভাব চিহ্নিত করে। পংয়েন্ট টু পয়েন্ট কমিউনিকেশন এর জন্য এই ধরনের আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়।নির্দিষ্ট কোন হোস্ট এর কাছে পাকেট ফরওয়ার্ড করার জন্য Unicast IP অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়।উদাহরণ হিসেবে আমরা নিচের চিত্রের দিকে খেয়াল করি।

আমরা উপরের চিত্রে দেখতে পাচ্ছি এখানে একপি কম্পিউটার একটি সার্ভার এর সাথে কমিউনিকেট করতে চাচ্ছে।এখানে যে আইপি অ্যাড্রেসটি (192.168.0.150) ব্যবহার করা হয়েছে তা একটি Unicast অ্যাড্রেস।

Multicast IP Addresses

One টু Many কমিউনিকেশন এর জন্য Multicast অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়।এখানে একটি গ্রুপ এর মাঝে কমিউনিকেট হয়ে থাকে। একটি Multicast প্যাকেট কেবল একটি কোন নেটওয়ার্কে এর Multicast গ্রুপটিই ঐ প্যাকেটি পেয়ে থাকে অন্য কেউ এই প্যাকেটটি অ্যাকসেস করতে পারবে না।উদাহরণ সরুপ আমরা নিচের চিত্রের দিকে লক্ষ করি।


এখানে রাউটার R1 একটি মাল্টিকাষ্ট প্যাকেট রাউটার R2 এর কাছে পাঠাচ্ছে যার Destination Address 244.0.0.9 এখানে রাউটার R2 প্যাকেটটি রিসিভ করতে পারবে এবং পড়তেও পারবে কিন্তু নেটওয়ার্কে থাকা অন্য কোন হোস্ট সেই প্যাকেটটি অ্যাকসেস করতে পারবে না।এখানে 244.0.0.9 একটি Multicast অ্যাড্রেস।

Broadcast IP Addresses

এটি হল Point-to-All কমিউনিকেশন। নেটওয়ার্কে যখন কোন হোস্ট একটি ব্রডকাষ্ট প্যাকেট পাঠায় তখন নেটওয়ার্কে থাকা সকল হোস্ট সেই প্যাকেটটি অ্যাকসেস করতে পারে। উদাহরণ সরুপ 192.168.0.0 255.255.255.0 নেটওয়ার্কের জন্য ব্রডকাষ্ট অ্যাড্রেস হল 162.168.0.255। যদি কোন হোস্ট 192.168.0.255 ডিস্টিনেশনে কোন প্যাকেট পাঠায় তাহলে সেই প্যাকেট নেটওয়ার্কের সকলেই অ্যাকসেস করতে পারবে।

এখানে রাউটার R1 নেটওয়ার্কের সকল হোস্ট এর সাথে কমিউনিকেট করতে চায় এজন্য সে ব্রডকাস্ট আইপি 192.168.0.255 ব্যাবহার করে নেটওয়ার্কে প্যাকেট ফরওয়াড করেছে।192.168.0.255 একটি ব্রডকাস্ট অ্যাসেড্রস।
ভার্সন অনশারে আইপি অ্যাড্রেসকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:-
  1. IPv4 ( আইপি ভার্সন ৪)
  2. IPv6 (আইপি ভর্সন ৬)
এখানে আমরা শুধু IPv4 কি এবং এদের গঠন সর্ম্পকে আলোচনা করব ।

IPv4 আইপি ভার্সন ৪

Internet Protocol Version 4  এটি একটি  ৩২ বিটের আইপি অ্যাড্রেস। এবং এই আইপি অ্যাড্রেসকে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক ভাগে রয়েছে ৮ টি করে বিট । আইপি অ্যাড্রেসকে সাধারণত ডেসিমেল নাম্বারে প্রকাশ করা হয়। যেমন 192.168.10.10 এটি একটি আইপি অ্যাড্রেস । এক আমরা চাইলে বাইনারিতে ও লিখতে পারি এবং ইউজ করতে পারি । তবে বাইনারিতে যেহেতু অনেকগুলি নাম্বার হয় তাই তা মনে রাখা  কঠিন হয় এজন্য আইপি অ্যড্রকে সাধারনত ডেসিমেলেই প্রকাশ করা হয়।  আইপি ভার্সন ৪ এর আইপি অ্যাড্রেসকে দুটি অংশে ভাগ করা হয়। এর প্রথম অংশ হল নেটওয়ার্ক অংশ এবং শেষের অংশ হল হোস্ট অংশ। এই  আইপি অ্যাড্রেস শুরু হয় 0.0.0.0 থেকে এবং শেষ হয় 255.255.255.255 । এতে মোট 4294967296 টি আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে। যা দিয়ে আমরা 4294967294 টি হোস্টকে চিন্হিত করতে পারব।


ক্লাস অনুসারে TCP/IP আইপি অ্যাড্রেসকে ৫টি ভাগে ভাগ করেছে যথা:
  1. Class A ( ক্লাস এ )
  2. Class B ( ক্লাস বি )
  3. Class C ( ক্লাস সি )
  4. Class D ( ক্লাস ডি )
  5. Class E ( ক্লাস ই )

Class A ( ক্লাস এ )

আমরা জানি যে আইপি ভার্সন ৪ কে ৪টি অকটেড এ ভাগ করা হয়  এবং প্রতিটি ভাগে রয়েছে ৮টি করে বিট। এবং এটাও জানি যে প্রতিটি আইপি অ্যাড্রেস এর দুটি অংশ রয়েছে নেটওয়ার্ক অংশ এবং হোস্ট অংশ। Class A আইপি অ্যাড্রেস এর প্রথম অকটেডটি হল নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষ ৩টি অকটেড হল হোস্ট এর জন্য । অর্থৎ প্রথম ৮টি বিট হল নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের ২৪টি বিট হল হোস্ট এর জন্য। Class A আইপি অ্যাড্রেস শুরু হয় 0.0.0.0 থেকে 127.255.255.255 পর্যন্ত। যখন আমাদের নেটওয়ার্কে অনেক বেশি পরিমানে হোস্ট এর প্রয়োজন পরবে তখন আমরা Class A এর আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে পারি।

Class B (ক্লাস বি)

Class B আইপি অ্যাড্রেসটি শুরু হয় 128.0.0.0 থেকে  এবং শেষে হয় 191.255.255.255 পর্যন্ত। এর প্রথম ১৬টি বিট ব্যবহার করা হয় নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের ১৬টি বিট ব্যবহার করা হয় হোস্ট এর জন্য । যখন আমরদের নেটওয়ার্কে নেটওয়ার্ক ও হোস্ট এর সংখ্যা সমান দরকার তখন আমরা Class B এর আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে পারি ।

Class C (ক্লাস সি)

Class C আইপি অ্যাড্রেসটি শুরু হয় 192.0.0.0 থেকে  এবং শেষে হয় 223.255.255.255 পর্যন্ত। এর প্রথম ২৪টি বিট ব্যবহার করা হয় নেটওয়ার্ক এর জন্য এবং শেষের ৮টি বিট ব্যবহার করা হয় হোস্ট এর জন্য । যখন আমরদের নেটওয়ার্কে নেটওয়ার্ক এর পরিমান বেশি এবং হোস্ট এর পরিমান কম দরকার সেখানে Class C এর আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে পারি ।

Class D (ক্লাস ডি)

Class D একটি বিশেষ শ্রেণির আইপি অ্যাড্রেস। এর রেঞ্জ হল 224.0.0.0 থেকে 239.255.255.255 পর্যন্ত। Class D এর আইপি অ্যাড্রেস সবার জন্য উন্মুক্ত না । এই নেটওয়ার্ক এর আইপি অ্যাড্রেস সমুহ Multicast Group এর জন্য ব্যবহার করা হয়।

Class E (ক্লাস ই)

IP address এর 240.0.0.0 থেকে 255.255.255.255 পর্যন্ত রেঞ্জকে বলা  হয় Class E । এই রেঞ্জ এর আইপি অ্যাড্রেস সাধারণত বৈঙ্গানিক গবেষনার জন্য ব্যবহার করা হয়। এখানে 255.255.255.255 আইপি অ্যাড্রেসটি ব্রডকাষ্ট এর জন্য ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও আইপি অ্যাড্রেসকে আরো দুই ভাগে যথা:-
  1. প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস (Private IP Address)
  2. পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস (Public IP Address)

প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস (Private IP Address)

যে সকল আইপি অ্যাড্রেস নন রাউটেবল অর্থৎ যে সকল আইপি অ্যাড্রেসকে ইন্টারনেট দ্বারা অ্যাকসেস করা যায় না তাকে বলে প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস। প্রত্যেক ক্লাস এ কিছু প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে নিন্মে এগুলির রেঞ্জ উল্লেখ করা হল।
  • Class A এর ক্ষেত্রে এর রেঞ্জ হল 10.0.0.0 থেকে 10.255.255.255 পর্যন্ত।
  • Class B এর ক্ষেত্রে এর রেঞ্জ হল 172.16.0.0 থেকে 172.31.255.255 পর্যন্ত।
  • Class C এর ক্ষেত্রে এর রেঞ্জ হল 192.168.0.0 থেকে 192.168.255.255 পর্যন্ত।

Sunday, March 3, 2019

নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যবল/মিডিয়া সর্ম্পকে জানুন

নেটওয়ার্ক মিডিয়া (Network Media)

নেটওয়ার্কে এক কম্পিউটার থেকে আর এককম্পিউটারে ডাটা পাঠানোর জন্য কোন না কোন মাধ্যম এর প্রয়োজন হয় । যে মাধ্যমে নেটওয়ার্কের ডিভাইস সমুহপরস্পর এর সাথে যুক্ত থাকে তাকে বলা হয় নেটওয়ার্ক মিডিয়া বা মাধ্যম । এই মিডিয়ার মাধ্যমে নেটওয়ার্কে ডাটাপ্রবাহিত হয় এবং নেটওয়ার্কের পারফরমেন্স অনেকটা এর উপর নির্ভর করে ।

নেটওয়ার্ক মিডিয়াকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথা…
  • ওয়্যার মিডিয়া (Wire Media)
  • ওয়্যারলেস মিডিয়া (Wireless Media)
ওয়্যার মিডিয়াকে আবার কয়োক ভাগে ভাগ করা যায় । এগুলি হল...
  • ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted Pair Cable)
  • কোএক্সিয়াল ক্যাবল  (Coaxial cable)
  • ফাইবার অপটিক ক্যাবল (Fiber optic cable)
ওয়্যারলেস মিডিয়াকে ও কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়, যথা……
  • রেডিও ওয়েভ (Radio Wave)
  • মাইক্রোওয়েভ (Microwave)
  • ইনফ্রারেড (In-fared)
নিন্মে এই নেটওয়ার্ক মিডিয়াগুলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হল ।

ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল : (Twisted Pair Cable)

ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল এ একসাথে কয়েক জোড়া ক্যাবল পাকানো অবস্থায় থাকে, যার মধ্যদিয়ে ডাটা সিগন্যাল প্রবাহিত হয় । এই ধরনের ক্যাবল সাধারণত টেলিকম্যুনিকেশন এর জন্য ব্যবহার করা হয় । ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল এ কালার কোডিং ব্যবহার করা হয় । প্রতিটি তার ইনসুলেশন দ্বারা আচ্ছাদন কার থাকে । এসব আচ্ছাদন কার তারকে ট্যুইস্ট করা বা পাকানো হয়, এবং পাকানো সবগুলি তারকে একসাথে নিয়ে একটি প্লাস্টিক এর জাকেট দ্বারা মোরানো থাকে । যাতে তার গুলি সুরক্ষিত থাকে । এই ধরনের ক্যাবল এর জন্য সাধারণত RJ45 Connector ব্যবহার করা হয় ।
এই ক্যাবলকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয় । যথা...
  1. শিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Shielded Twisted Pair)
  2. আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Unshielded Twisted Pair Cable)

শিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (STP)

শিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবলে প্রতিটি  ট্যুইস্ট জোড়া থাকে অর্থাৎ প্রতিটি ট্যুইস্ট এ দুটি ক্যাবল একসাথে পাকানো থাকে এবং এই প্রতিটি ট্যুইস্ট আবার একটি শিল্ড বা শক্ত আবরণ দ্বার আচ্ছাদন কারা থাকে । এই প্রতিটি ট্যুইস্ট কে আবার একটি প্লস্টিক এর জাকেট এর মাধ্যমে আচ্ছাদন কারা থাকে। এই ধরনের ক্যাবলে Electromagnetic interference বা EMI ইফেক্ট এর শিকার হয় না বললেই চলে । এই ধরণের ক্যাবল এর মাধ্যমে সাধারণত 100 মিটার পর্যন্ত কোন রিপিটার ব্যবহার করা ছাড়াই ডাটা ট্রান্সমিট করা যায় । এর ডাটা ট্রান্সফার স্পিড সাধারণত 16 থেকে 500 Mbps পর্যন্ত হতে পারে । সাধারণত লোকল এরিয়া নেটওয়ার্কে এই ধরনের ক্যাবল ব্যবাহার করা হয় ।

আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (UTP)

আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল  এ প্রতিটি  ট্যুইস্ট জোড়া থাকে কিন্ত প্রতিটি ট্যুইস্ট এ কোন প্রকার শিল্ডিং করা থাকে না । শুধু মাত্র সবকটি ট্যুইস্টকে নিয়ে একসাথে প্লাস্টিক এর কভার দ্বারা অচ্ছাদন করা থাকে । এই ক্যাবল সাধারণত লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা হয়। এধরনের ক্যাবল এর দাম সাধারণত খুব কম হয়ে থাকে । এবং এর ইন্সটলেশন খরচ খুব কম । তাই লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে এই ধরনের ক্যাবল প্রচুর পরিমানে ব্যবহার করা হয় ।
আনশিল্ডেড ট্যুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল কে আবার কয়েকটি  ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে এবং এই প্রত্যেকটি  ক্যাটগরির কিছু আলাদা আলাদা  বৈশিষ্ট রয়েছে । ক্যাটাগরি গুলি হল যথা…
  • Category 1 (Cat1)
  • Category 2 (Cat2)
  • Category 3 (Cat3)
  • Category 4 (Cat4)
  • Category 5 (Cat5)
  • Category 5e (Cat5e)
  • Category 6 (Cat6)
  • Category 6a (Cat6a)
  • Category 7 (Cat7)

 কোএক্সিয়াল ক্যাবল  (Coaxial cable)

এই ধরনের ক্যাবল সাধারণত মাঝখানে একটি তামার তার , তার উপর দিয়ে একটি ফোম ইন্সুলেশন এবং তার উপর ইন্সুলেশনকে ঘিরে আর একটি পরিবাহি তামার তার দ্বারা মোড়োনো থাকে এবং সর্বশেষ এই সমস্থকিছুকে একটি প্লাস্টিক জাকেট দ্বারা মোড়ানো থাকে ।  ইথারনেট লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে এই ধরনের ক্যাবল ব্যবহার কার হয় । এই ধরনের ক্যবলকে কানেকশন দেওয়ার জন্য BNC Connector ব্যবহার করা হয় ।

ফাইবার অপটিক ক্যাবল (Fiber optic cable)

ফাইবার অপটিক (Fiber optic) একধরনেরপাতলা, স্বচ্ছ তন্তু বিশেষ। এটি সাধারণত সিলিকা, কাচঁ অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো, যা আলো পরিবহনে ব্যবহৃতহয়। এই তন্তুর মধ্যদিয়ে যে আলো প্রবাহিত হয়, এই আলোর মাধ্যমে ডাটা প্রবাহিত হয় । এর মধ্য আলোর পূর্ণআভ্যন্তরীন পতিফলন এর মাধ্যমে ডাটা একস্থান হতে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়ে থাকে । ফাইবার অপটিক ক্যাবলসাধারণত প্রায় সকল প্রকার সাইড ইফেক্ট থেকে মুক্ত । অর্থাৎ কোন কিছুই এর সিগন্যালকে প্রভাবিত করতে পাবেনা । যে তন্তুর মধ্যেদিয়ে ডাটা প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় কোর । একটি ক্যাবল এর ভিতর অনেক কোর থাকতেপারে । একটি মাল্টিমোড কোর এর ডায়ামিটার হলো 125 মাইক্রোন (125µ) যা মানুষের দুটি চুলের সমানমোটা । এর প্রধান সুবিধা হল এতে অনেক উচ্চগতি পাওয়া যায় । বর্তমানে এতে 100 mbps থেকে 2 Gbps পর্যন্ত স্পিড পাওয়া যায় ।

রেডিও ওয়েভ (Radio Wave)

রেডিওতে যেভাবে সিগন্যাল ট্রান্সমিট করা হয় ঠিক সেই ভাবে নেটওয়ার্কেও ডাটা ট্রান্সমিট করা হয় রেডিও ট্রান্সমিশন এর মাধ্যমে । এক্ষেত্রে প্রতিটি কম্পিউটারকে একই ফ্রিকোয়েন্সিতি থাকতে হবে ।
রেডিও ওয়েভের ফ্রিকোয়েন্সি 10 কিলোহার্টজ থেকে 1 গিগাহর্টিজ পর্য়ন্ত হয়ে থাকে । এর মধ্যকার ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামকে বলা হয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি। এই সকল রিডিও ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রিত । আমি ইচ্ছা করলেই যেকোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করতে পারব না। তার জন্য সরকারি অনুমোদন থাকতে হবে । কোন নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে সিগনাল ট্রান্সমিট কারা জন্য সরকার থেকে লাইসেন্স নিতে হবে । কম্পিউটার নেটওয়ার্কি এর জন্য তিন ধররের রেডিও ট্রান্সমিশন ব্যবহার কার হয় ।
  • লো-পাওয়ার, সিঙ্গল  ফ্রিকোয়েন্সি
  • হাই-পাওয়ার, সিঙ্গল  ফ্রিকোয়েন্সি
  • স্প্রেড স্পেকট্রাম।

মাইক্রোওয়েভ (Microwave)

ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামের গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশন । এসব ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এর চেয়ে অনেক বেশি হয় । এর ফলে এর গতি ও পারফরমেন্স অনেক বেশি হয় । মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশনে অনেক বেশি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার কার হয় । এই ফ্রিকোয়েন্সি সাধারণত 4 থেকে 6 গিগাহার্টজ এবং 21 থেকে 23 গিগাহার্টজ পর্যন্ত হতে পারে । মাইক্রোওয়েভ সিস্টেম মূলত দুটো ট্রান্সসিভার নিয়ে গঠিত। এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট এবং অন্যটি রিসিভ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। মাইক্রোওয়েভের এন্টিনা বড়  কোনো  ভবন বা টাওয়ারের উপর বসানো হয় যাতে সিগন্যাল বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে  এবং পথে কোনো বস্তু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে। মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশন সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে যথা ..
  • টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশন
  • স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ ট্রান্সমিশন 

টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ

এই ধরণের প্রযুক্তিতে ভূপৃষ্টেই ট্রান্সমিটার ও রিসিভার বসানো হয়। ট্রান্সমিটার ও রিসিভার দৃষ্টি রেখায় যোগাযোগ করে। কোনো বাধা না থাকলে ১ থেকে ৫০ মাইল পযর্ন্ত ডেটা চলাচল করতে পারে।

স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ

এক্ষেত্রে সিগনাল পাঠানোর জন্য ভূ-পৃষ্ঠে থাকে স্যাটেলাইট এন্টেনা এবং শূণ্যে থাকে স্যাটেলাইট। মহাশুণ্যে অবস্থিত স্যাটেলাইট ও ভু-পৃষ্ঠের ডিশ এন্টনার মধ্যে সিগনাল আদান প্রদান করার মাধ্যমে কমিউনিকেশন সিস্টেম গড়ে ওঠে।

ইনফ্রারেড (Infared)

আমরা প্রায় সকলে রিমোট এর সাথে পরিচিত । এই রিমোটে সিগন্যল পরিবহন হয় ইনফ্রারেড পদ্ধতিতে । এইফ্রারেড মূলত আলোর মাধ্যমে সিগন্যাল ট্রান্সমিট হয় । কম্পউটার নেটওয়ার্কিং এর জন্য সাধারনত এই ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় না । সিমপ্লেক্স ট্রান্সমিশন এর ক্ষেত্রে এর গতি 16 mbps আর ডু্প্লেক্স ট্রান্সমিশন এর ক্ষেত্রে 1 mbps গতি হতে পারে । এই ধরনের সিগন্যাল সর্বোচ্চ 30 মিটার পর্যন্ত যেতে পারে । মাঝখানে কোন বাধা থাকলে তা ভেদ করে যেতে পারে না । এই ধরনের ট্রান্সমিশন দু ধরনের হতে পারে , যথা..
  1. পয়েন্ট টু পয়েন্ট ইনফ্রারেড
  2. ব্রডকাস্ট ইনফ্রারেড

হটস্পট( Hotspot)

হটস্পট হচ্ছে এক ধরনের ওয়্যারলেস নেটয়ার্ক। হটস্পট তৈরির জন্য জনপ্রিয় তিনটি প্রযুক্তি-
  1. ব্লু-টুথ ( Bluetooth )
  2. ওয়াই-ফাই ( Wi-Fi )
  3. ওয়াইম্যাক্স ( WiMAX )

ব্লু-টুথ (Bluetooth)

ব্লুটুথ হচ্ছে একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একটি ওয়্যারলেস পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN)  সৃষ্টি করা যায়। এর দূরত্ব সাধারণত ১০ থেকে ১০০ মিটার হয়ে থাকে। বিভিন্ন ডিভাইসে USB পোর্টের মাধ্যমে  ব্লুটুথ সংযোগ দেয়া হয়। ১৯৯৪ সালে টেলিকম ভেন্ডর এরিকসন ব্লুটুথ উদ্ভাবন করে। দশম শতাব্দির ডেনমার্কের রাজা হারাল্ড ব্লুটুথ এর নামানুসারে এ প্রযুক্তিটির নাম রাখা হয়েছে  ব্লুটুথ। এর ডেটা ট্রান্সফার রেট প্রায় ১ মেগাবিট/সেকেন্ড বা তারচেয়ে বেশি।
ব্লুটুথের বৈশিষ্ট্য –
  • স্বল্প দূরত্বে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা স্থানান্তরে ব্লুটুথ রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে।
  • ব্লুটুথ ২.৪ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকুয়েন্সিতে কাজ করে।
  • ১০-১০০ মিটারের মধ্যে অবস্থানকারী ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।
  • ব্লুটুথ একটি পিকোনেট এর আওতায় সর্বোচ্চ ৮টি যন্ত্রের সাথে সিগন্যাল আদান-প্রদান করতে পারে।
  • এটি IEEE 802.15.1 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN)
 ব্লুটুথের  ব্যবহার-
  • ফোনের সাথে হ্যান্ডস ফ্রি হেডসেটের সংযোগ সাউন্ড বা ভয়েস ডেটা স্থানান্তরে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।
  • ফোন থেকে কম্পিউটারে ফাইল স্থানান্তরে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
  • ব্লুটুথ ব্যবহার করে কম্পিউটারের সাথে অন্যান্য ডিভাইসের সংযোগ ঘটানো যায় এবং তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
  • পিসির ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসগুলোর সাথে তারবিহীন যোগাযোগে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।
  • জিপিএস রিসিভার, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, বারকোড স্ক্যানার ও ট্রাফিক কন্ট্রোল ডিভাইসগুলোতে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়
  • ডেডিকেটেড টেলিহেলথ ডিভাইসগুলোতে হেলথ সেন্সর ডেটাগুলোর শর্ট রেঞ্জ ট্রান্সমিশনে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।
  • প্রায়ই ইনফ্রারেড ব্যবহৃত হয় এমন স্থানে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।

ওয়াই-ফাই(Wi-Fi)

Wi-Fi শব্দটি Wireless Fidelity শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। ওয়াই-ফাই হলো জনপ্রিয় একটি তারবিহীন নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি যা বেতার তরঙ্গকে ব্যবহার করে থাকে। এটি ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WLAN)  এর IEEE(Institute of Electrical & Electronics Engineers) 802.11 প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড। এর এরিয়া একটি কক্ষ, একটি ভবন কিংবা সাধারণত ইনডোরের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব ৩২ মিটার এবং আউটডোরের ক্ষেত্রে ৯৫ মিটারের মতো এলাকা জুড়ে হতে পারে।  ওয়াই-ফাই  এনাবল্ড কোনো ডিভাইস যেমন-  একটি পার্সোনাল কম্পিউটার, ভিডিও গেম কনসোল, স্মার্টফোন কিংবা ডিজিটাল অডিও প্লেয়ার প্রভৃতি একটি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক অ্যাকসেস পয়েন্টের মাধ্যমে  ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে পারে।

ওয়াই-ফাই এর বৈশিষ্ট্য-

  • এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WLAN)
  • Wi-Fi প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই সাথে একাধিক কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যায়।
  • ওয়াই-ফাই এর কভারেজ সীমিত পরিসর থেকে নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে পাওয়া সম্ভব।
  • Wi-Fi প্রযুক্তির সাহায্যে ইন্টারনেট অ্যাকসেস করা যায়।

ওয়াই-ফাই এর সুবিধা-

  • Wi-Fi প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই সাথে একাধিক কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যায়।
  • নেটওয়ার্কের জন্য কোনো লাইসেন্স বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
  • নেটওয়ার্ক সহজে নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত করে নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানো যায়।
  • ওয়াই-ফাই লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়।

ওয়াই-ফাই এর অসুবিধা-

  • Wi-Fi নেটওয়ার্কের সীমানা নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।
  • নেটওয়ার্কের দক্ষতা ও গতি তুলনামূলকভাবে কম।
  • বিদ্যুৎ খরচ অন্যান্য স্ট্যান্ডার্ডের তুলনায় বেশি।
  • অন্যান্য ডিভাইস কর্তৃক সিগন্যালে জ্যাম বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।
  • ডেটা ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে যায়।
  • দূরত্ব বেশি হলে নেটওয়ার্কের গতি ও সিগন্যালের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যহারে কমে যেতে পারে।
  • অজ্ঞাত বা অনুমোদিত ব্যক্তি কর্তৃক অ্যাক্সেস পয়েন্ট ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।

ওয়াইম্যাক্স(WiMAX)

WiMAX  এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Worldwide Interoperability for Microwave Access। ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ  গতির ব্রডব্যান্ড সেবা, তারবিহীন ব্যবস্থায় বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট অ্যাকসেস করার সুযোগ পাওয়া যায়।১৯৯৮ সালে IEEE 802.16, ওয়্যারলেস মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (WMAN)  এর জন্য মানটি আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এ প্রটোকলের ডেটা ট্রান্সমিশন রেট ৭০ মেগাবিট/ সেকেন্ড। WiMAX এর প্রধান দুটি অংশ রয়েছে। একটি হচ্ছে WiMAX এর বেস স্টেশন যা ইনডোর ও আউটডোর টাওয়ার নিয়ে গঠিত। অন্যটি হচ্ছে এন্টিনাসহ WiMAX রিসিভার, যা কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংযুক্ত থাকে। একটি WiMAX বেস স্টেশন সাধারণত ১০ কিমি হতে শুরু করে ৬০ কিমি পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সুবিধা দিয়ে থাকে।

ওয়াইম্যাক্স এর সুবিধা-

  • কভারেজ এরিয়া সাধারণত ১০ কিমি হতে শুরু করে ৬০ কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • একক একটি স্টেশনের মাধ্যমে হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট সেবা দেয়া যায়।
  • ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড লাইসেন্স বা লাইসেন্সবিহীন উভয়ই হতে পারে।
  • প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সেবা পাওয়া যায়; এমনকি যেখানে ফোনের সংযোগ পৌঁছেনি সেখানেও।
  • কোয়ালিটি অব সার্ভিসের নিশ্চয়তা দেয়।
  • তথ্য ও টেলিযোগাযোগ সেবাগুলো প্রদান করা যায়।
  • এন্টিনাসহ WiMAX রিসিভার, যা কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংযুক্ত থাকে।

 ওয়াইম্যাক্স এর অসুবিধা-


  • দূরত্ব বেশি হলে একাধিক বেজ স্টেশনের প্রয়োজন হয়।
  • নেটওয়ার্কের অন্যান্য ওয়্যারলেস ডিভাইস সিগন্যালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
  • সংস্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি।
  • অনেক ব্যবহারকারী একই টাওয়ার অ্যাক্সেস করায় সার্ভিসের সঠিক গুণগত মান বজায় রাখা অনেকক্ষেত্রে কঠিন।
  • অন্যান্য নেটওয়ার্ক যেমন- ফাইবার অপটিক, স্যাটেলাইট, ক্যাবল ইত্যাদির সাথে তুলনা করলে ওয়াইম্যাক্স এর ডেটা রেট অত্যন্ত ধীরগতির।
  • খারাপ আবহাওয়া যেমন বৃষ্টির কারণে এর সিগন্যালে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
  • বেশি বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহারকারী প্রযুক্তি যার ফলে সার্বিক নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়।

Saturday, March 2, 2019

টপোলজি কি, বিভিন্ন প্রকার টপোলজির বর্ননা।

আমরা জানি প্রত্যেকটি নেটওয়ার্ক  কিছু কম্পিউটার বা হোস্ট এর সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে যারা একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে তথ্য আদান প্রদান করে । নেটওয়ার্ক টপোলজি হল এমন একটি বিষয়, যাতে নেটওয়ার্কে প্রত্যেকটি হোস্ট বা ডিভাইস সমুহ কিভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকবে সেই সিস্টেমকে বুঝায় ।

টপোলজিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
  1. বাস টপোলজি (Bus Topology)
  2. স্টার টপোলজি (Star Topology)
  3. রিং টপোলজি (Ring Topology)
  4. মেশ টপোলজি (Mesh Topology)
  5. ট্রি টপোলজি (Tree Topology)
  6. হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)
নিন্মে এই টপোলজি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

বাস টপোলজি (Bus Topology)

বাস টপোলজিতে একটি ব্যাকবোন ক্যাবল থাকে এবং এই ব্যাকবোন ক্যাবল এর সাথে সকল হোস্ট সমুহ যুক্ত থাকে । এই প্রকার নেটওয়ার্ক গঠন করা থুব সহজ এবং এত থরচ কম হয় । এই প্রকার নেটওয়ার্কএ যখন কোন কম্পিউটার ডাটা পাঠায় তখন, যে কম্পিউটার এর কাছে ডাটা পাঠানো হয়েছে, সে ডাটা গ্রহন করবে। এই সময় অন্য কোন কম্পিউটার ডাটা আদান প্রদান করতে পারবে না । এই ব্যাকবোন ক্যাবল এর দুই পাশে দুটি টারমিনেশন ব্যবহার করা হয় যাতে করে ডাটা কলিশন না ঘটে।

স্টার টপোলজি (Star Topology)

স্টার টপোলজিতে একটি কেন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রয়ন অংশ থাকে যাকে বলা হয় হাব বা সুইচ। এ্রর সাথে সকল হোস্ট সমুহ যুক্ত।স্টার টপোলজিতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বা বর্ধিত করা সহজ কিন্তু কেন্দ্রিয় ডিভাইসটি নষ্ট হয়ে হয়ে গেলে সমস্ত নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে পড়ে।

রিং টপোলজি (Ring Topology)

রিং টপোলজিতে প্রত্যেকটি কম্পিউটার একটি বৃত্তের ন্যায় একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে । এখানে প্রত্যেকটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে এমন ভাবে যুক্ত থাকে যে তারা একটি রিং বা লুপের সৃষ্টি করে । এই টপোলজিতে কোন শুরু বা শেষ প্রান্ত থাকে না । এই নেটওয়ার্কএ হোস্ট সমুহ একটি বৃত্তকার পথে পরস্পর এর সাথে যুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করে । এখানে কোন হোস্ট অন্য কোন হোস্ট এর কাছে ডাটা পাঠালে পরের হোস্ট এর কাছে যাবে, ডাটাটি যদি তার কাছে না পাঠানে হয় তবে সে ডাটাটিকে পরের হোস্ট এর কাছে পাঠায়ে দিবে । এভাবে ডাটাটি প্রত্যেকটি হোস্ট এর কাছে যেতে খাকবে যতক্ষন না তা নির্ধারিত হোস্ট এর কাছে না যায় ।

মেশ টপোলজি (Mesh Topology)

মেষ টপোলজিতে নেটওয়ার্কএ যুক্ত প্রত্যেকটি হোস্ট একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে । যেকোন হোস্ট সরাসরি যে কোন হোস্ট এর কাছে ডাটা পাঠাতে পারে ।এই ধরনের টপোলজি ইন্সটলেশন ও কনফিগারেশন বেশ জটিল। ব্যস্তবে এই ধরনের টপোলজি থাকে না বললেই চলে ।

ট্রি টপোলজি (Tree Topology)

স্টার টপোলজির সম্প্রসারিত রূপ হচ্ছে ট্রি টপোলজি। এই টপোলজিতে একাধিক কানেক্টিং ডিভাইস হিসেবে হাব বা সুইচ ব্যবহার করে নেটওয়ার্কভুক্ত সকল কম্পিউটারকে একটি বিশেষ স্থানে সংযুক্ত করা হয়। একে বলা হয় সার্ভার ভা রুট। ট্রি সংগঠনে এক বা একাধিক স্তরে নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলো রুট এর সাথে যুক্ত থাকে।

হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)

হাইব্রিড টপোলজি হল বিভিন্ন ধরনের টপোলজির সংমিশ্রন । এই টপোলজি স্টার, রিং, বাস ইত্যাদি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত হয় বলে একে  হাইব্রিড টপোলজি বলে। ইন্টারনেট একটি হাইব্রিড নেটওয়ার্ক, কেননা এতে প্রায় সব ধরণের নেটওয়ার্কই সংযুক্ত আছে।